seo, internet, marketing

হোয়াইট হ্যাট এসইও এবং ব্ল্যাক হ্যাট এসইও

আর্টিকেলের টাইটেল দেখে হয়তো ভাবছেন এসইও আবার হোয়াইট হ্যাট বা ব্ল্যাক হ্যাট হয় নাকি? হোয়াইট হ্যাট আর ব্লেক হ্যাট তো হ্যাকিং এ হয়। এসইও তো আবার কী? হ্যা, হোয়াইট হ্যাট এসইও এবং ব্ল্যাক হ্যাট এসইও হয়!

গ্রে হ্যাট এসইও, হোয়াইট হ্যাট এসইও এবং ব্ল্যাক হ্যাট এসইও

এসইও তিনধাপে করতে হয়। কী-ওয়ার্ড রিসার্চ, অন পেজ অপটিমাইজেশন, অফ পেজ অপটিমাইজেশন। এই তিনটি ধাপ দুইভাবে করা যায়। সরি, তিন ভাবে। হোয়াইট হ্যাট, ব্ল্যাক হ্যাট ও গ্রে হ্যাট। 9-10 এর বইয়ে হয়তো এই তিনটার ধারণা নিয়েছেন। তএখন এসইও এর বেলায় ধারণা নিয়ে রাখেন৷

হোয়াইট হ্যাট এসইও এর ধারণা

অন পেজ এসইও করার জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়ম নীতি আছে। যে সার্চ ইঞ্জিন এর জন্য এসইও করবেন সেই সার্চ ইঞ্জিন এর সুনির্দিষ্ট নিয়ম নীতি আছে। যেমন ইউনিক কন্টেন্ট, কোয়ালিটি সম্পন্ন কন্টেন্ট থাকতে হবে। আর্টিকেল এর এক একটি প্যারায় ২ টার বেশি কী-ওয়ার্ড থাকবে না, কী-ওয়ার্ড এর ঘনত্ব কম থাকতে হবে। আর্টিকেল এ কপিরাইট নাই এমন ছবি ব্যবহার করতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি। কোনো এসইও এক্সপার্ট যদি এসব সুনির্দিষ্ট নীতিমালা মেনে এসইও করে তবে সেটা হবে হোয়াইট হ্যাট এসইও।

অফ পেজ অপটিমাইজেশন মূলত সাইটের বা কন্টেন্ট এর মার্কেটিং। যেমন ব্যাকলিংক ক্রিয়েট করা, ইন্টার্নাল, আউটবন্ড লিংক দেওয়া সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার, সোশ্যাল ফোরামে শেয়ার ইত্যাদি। এর জন্যও এসইও এক্সপার্টরা নীতিমালা অনুসরণ করেন, সার্চ ইঞ্জিনদেরও নিজস্ব নীতিমালা আছে। যেমন হাই অথরিটি ডোমেইন সম্পন্ন সাইটে ব্যাকলিংক ক্রিয়েট করা, সোশ্যাল ফোরামে শেয়ার, মিডিয়াম অথরিটি ডোমেইন সম্পন্ন সাইটে ব্যাকলিংক ক্রিয়েট করা ইত্যাদি। লো অথরিটি ডোমেইন সম্পন্ন সাইটে বেশি পরিমানে লিংক, এডাল্ট সাইটের মধ্যে লিংক ক্রিয়েট না করা একটা সাইটে অধিক লিংক ক্রিয়েট না করা ইত্যাদি। কেউ এসব নিয়মনীতি মেনে এসইও করলে সেটা হোয়াইট হ্যাট এসইও।

এক কথায় এসইও এক্সপার্ট ও সার্চ ইঞ্জিনদের নিয়ম- নীতিমালা অনুসরণ করে এসইও করা৷

হোয়াইট হ্যাট এসইও কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী। সার্চ ইঞ্জিন যদি দেখে সব ঠিকঠাক আছে, তখন তার কাছে সেই সাইটের বা কন্টেন্ট এর ভ্যালু বেড়ে যায়।

ব্ল্যাক হ্যাট এসইও এর ধারণা

ব্ল্যাক হ্যাট এসইও হলো হোয়াইট হ্যাট এসইও এর ঠিক উল্টো। এক কথায় চুরি-চামারি করে, সার্চ ইঞ্জিনকে ধোকা দিয়ে এসইও করা৷

একটা আর্টিকেলের একটা প্যারায় একই কী-ওয়ার্ড ১০-১২ বার ব্যবহার করা নীতিমালার বিপরীত। ঘন ঘন লিংক দেওয়া ও ক্রিয়েট করা, চুরি করা কন্টেন্ট আপলোড ইত্যাদি কিন্তু ব্ল্যাক হ্যাট এসইও এর মধ্যে পড়ে!

ব্ল্যাক হ্যাট এসইও করে আপনি তাড়াতাড়ি র‍্যাংক এ আসতে পারবেন। কিন্তু যেদিন সার্চ ইঞ্জিনের কাছে ধরা খাবেন, সেদিন আপনার সাধের ওয়েবসাইট গোল্লায় যাবে! সাময়িক ভাবে আপনি খুব সহজে রেজাল্ট পেজ এ র‍্যাংক এ আসতে পারবেন। কিন্তু ব্ল্যাক এ এসইও করা এটা সার্চ ইঞ্জিন যানতে পারলে, ইনডেক্সিং অফ করে দিবে!

আজকাল ব্ল্যাক এ যেমন সিনেমা দেখা যায়, এসইওও করা যায়! কিন্তু ফলাফল? চিন্তা করুন৷

গ্রে হ্যাট এসইও এর ধারণা

গ্রে হ্যাট এসইও। এই টাইপের এসইও যারা করে তাদের মন বুঝা খুব মুশকিল৷ তারা কিছু সময়ের জন্য সিংগাম হয়ে যায়, কিছু সময়ের সিম্ভা হয়ে যায়।
গ্রে হ্যাট এসইও হলো হোয়াইট ও ব্ল্যাক হ্যাট এর সংমিশ্রণ। কেউ ভালো মানুষের মতো এসইও করল। দিন শেষে টাকা পকেটে ঢুকিয়ে বাড়ি ফিরল৷ কিন্তু হঠাৎ যদি “উপরি ইনকামের” সুযোগ পায় তবে সামান্য উনিশ বিশ করে৷ দিন শেষে হালকা সামান্য টাকা বেশি পকেটে ঢুকিয়ে বাড়ি ফিরে!

দিন এখন আগের মতো নাই৷ আগে একটা সময় ছিল কে হোয়াইট হ্যাট এসইও করে আর কে ব্ল্যাক হ্যাট এসইও করে এটা কেউ কেয়ার করত না। ডুপ্লিকেট কন্টেন্ট, কী-ওয়ার্ডের বেশি ঘনত্ব ইত্যাদি করেও র‍্যাংক এ আসত। আগে অফ পেজ অপটিমাইজেশন এ সবাই বেশি বেশি লিংক ক্রিয়েট করতে ব্যস্ত থাকত৷

এখন সময় বদলে গেছে। টেকনোলজি বদলেছে। এখন সর্বত্র আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স রাজত্ব করছে। বড় বড় সার্চ ইঞ্জিন যেমন গুগল, বিং এআই ব্যবহার করে৷ আপনি ব্ল্যাক হ্যাট এসইও করে পার পাবেন না। ধরা খাবেনই৷ সার্চ ইঞ্জিনের এলগরিদম ফলো করবেন, ঠিকে থাকতে পারবেন৷

এখন কেউ ডুপ্লিকেট কন্টেন্ট দিলে পুরো সাইট ব্লক হয়ে যায়৷

এসইও করুন, সঠিকভাবে। এসইও ইজ দ্য বেস্ট মার্কেটিং মেথড। কম খরচে অর্গানিক ও পটেনশিয়াল ভিজিটর আনার একমাত্র উপায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *