আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কী? -এআই এর ধারণা ও ইতিহাস (পর্ব- ১)

আমরা অনেকেই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর নাম শুনেছি। বিশেষ করে এই ২০২০ সালে খুবই কম মানুষ পাওয়া যাবে যারা এর নাম শুনে নি। তো এই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কী? খায়? পড়ে? না মাথায় দেয়? চলুন জেনে নেওয়া যাক।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কী?

বুদ্ধি জিনিসটা হলো জ্ঞান আহরণ ও প্রয়োগ করার ক্ষমতা। সেই জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত ও সমস্যা সমাধান করার ক্ষমতা। আর এই ক্ষমতা আমরা হোমো স্যাপিয়েন্সদের আছে। কিন্তু কোনো প্রোগ্রাম বা কম্পিউটার এর এই ক্ষমতা নেই।

যখন আমরা কম্পিউটার বা একটি প্রোগ্রামকে এই ক্ষমতা দেই তখন তাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই)বলে। সংরক্ষিত জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য একটি প্রোগ্রাম এ অনেক সমস্যার সমাধান ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। সেই সমাধানগুলো এনালাইসিস করে এআই সমাধান দেয় বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর ধারণা আমরা যতটুকু নতুন মনে করে ততটুকু না! যদি আমরা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর টাইমলাইন দেখি, তবে দেখতে পাবেন সেই গ্রীক আমল থেকে এর ধারণা সৃষ্টি হয়েছে! (এ নিয়ে আরো পড়ুন এখানে)

১৯৫০ সালে অফিশিয়ালি Computing Machinery and Intelligence এই বইয়ে এলান টুরিন (উনার সম্পর্কে)একটি মেশিনের মানুষের সমান বুদ্ধিমত্তা অর্জনের সম্ভাব্যতা তুলে ধরেন৷ তার বিখ্যাত একটি উক্তি “একটি মেশিন যদি মানুষের মত চিন্তা ও কাজ করতে পারে, তবে সেই মেশিনকে বুদ্ধিমান বলা যেতে পারে”!

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ধারণার প্রবর্তক
এলান টুরিং

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর ক্যাটাগরি

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর তিনটি ক্যাটাগরি রয়েছে। Narrow Intelligence, General Intelligence ও Super Intelligence.

Narrow ক্যাটাগরি

আমরা এখন এআই এর যে জেনারেশন এ আছি তা হলো Narrow জেনারেশন। এটি শুধু মাত্র একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে এক্সপার্ট। যেমন সার্চ ইঞ্জিন বা এসইও তে গুগল, বিং বা ইউন্ডেক্স যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে। কারণ এর ভেতরে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের সমস্যার সমাধান ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এর জন্যই আলফাগো কখনো লুডু বা সুডোকু খেলতে পারবে না৷

General ক্যাটাগরি

২য় ক্যাটাগরি হলো General Intelligence। এটি মানুষের মত চিন্তা করতে, সিদ্ধান্ত নিতে, প্ল্যান করতে সক্ষম। প্রায় মানুষের বুদ্ধিমত্তার সমান ক্ষমতা সম্পন্ন। এই ক্যাটাগরির ইন্টেলিজেন্স যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নিতে সক্ষম৷ কিন্তু দুঃখের বিষয় আমাদের কাছে এটা নাই! আমরা এখন জেনারেল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স পর্যায়ে যেতে পারি নি!

Super ক্যাটাগরি

সর্বশেষ ও শক্তিশালী ক্যাটাগরি হলো Super Intelligence। যেটি মানুষের বুদ্ধিমত্তা থেকেও শক্তিশালী। নিসন্দেহে জেনারেল ক্যাটাগরির আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সি থেকে শক্তিশালী। আমরা যেভাবে চিন্তাভাবনা করি, কাজ করি, সিদ্ধান্ত নেই, তার থেকে অনেক কার্যকরীভাবে সিদ্ধান্ত ও চিন্তাভাবনা করতে সক্ষম Super Intelligence ক্যাটাগরির আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স! এটি মানবজাতির জন্য সুফল বয়ে আনতে পারে আবার কুফল বয়েও আনতে পারে৷ এটি এখনো গবেষণাধীন। তবে আমরা এখনো General ক্যাটাগরিতে যেতে পারি নি। সো এত তাড়াতাড়ি চিন্তিত হওয়ার কিছুই নেই৷ বর্তমান করোনা সিচুয়েশনে Super ক্যাটাগরির ইন্টেলিজেন্স থাকলে করোনা সিচুয়েশন থেকে উত্তরণের নির্ভরযোগ্য পথ পেতে পারতাম।

এখন পর্যন্ত শক্তিশালী আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কতটুকু শক্তিশালী?

সার্চ ইঞ্জিন এ যে Narrow ক্যাটাগরির ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করা হয়, তা শুধু ডেটা সংরক্ষণ, এনালাইসিস, প্রদর্শন করতে পারে।

আমাদের এক্টিভিটি সংরক্ষণ করে সেটা এনালাইসিস করে। সেই বিশ্লেষণ থেকে প্রাপ্ত ডেটা সংরক্ষণ করে। যখন আমরা কোনো বিষয় সার্চ করি, ঐ সংরক্ষিত ডেটার উপর ভিত্তি করে সার্চ রেজাল্ট প্রদর্শন করে।

অর্থাৎ, এখন পর্যন্ত সবথেকে শক্তিশালী এআইও দুর্বল একটি প্রোগ্রাম। মাত্র একটি বিষয়ে এক্সপার্ট। ডেটা সংরক্ষণ, এনালাইসিস ও তার উপর ভিত্তি করে ডেটা প্রদর্শন।

বুঝতেই পারছেন আমরা কতটুকু পিছিয়ে আছি! কিন্তু এই প্রশ্ন কেন উঠে এআই মানুষের জন্য কুফল বয়ে আনবে? মানুষের জন্য যদি এআই কুফল বয়ে আনে তাহলে এর জন্য দায়ী আমরা মানুষেরাই৷

কেন? কারণ বুঝতে হলে উপরের প্রথম ৪ লাইন আবার ভালো করে পড়েন, বুঝেন, ফিল করে৷

2 thoughts on “আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কী? -এআই এর ধারণা ও ইতিহাস (পর্ব- ১)”

  1. Pingback: এসইও কী? - ফান্ডামেন্টাল অব এসইও - অক্ষর

  2. Pingback: সরোপড : তৃণভোজী ডাইনোসরদের ঘুমন্ত ইতিহাস - অক্ষর

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *