এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল যেভাবে লিখবেন (গুগল এর লেটেস্ট আপডেট অনুসারে)

এসইও করার প্রথম ধাপ হলো এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লিখা।

ব্লগ এ ভিজিটর নিয়ে আসা দিন দিন খুব কষ্টকর হচ্ছে। ওয়ার্ডপ্রেস এর মতে প্রতিদিন ২.২ মিলিয়ন ব্লগ পোস্ট পাবলিশ হয়৷

সুতরাং এর কম্পিটিশন এর মধ্যে যদি আপনার ব্লগ এ ভিজিটর নিয়ে আসতে চান, তাহলে আমেজিং একটি কন্টেন্ট লিখতে হবে৷ সুপার এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লিখতে হবে।

এখানে আমি আপনাদের সাথে কিছু ট্যাকটিকস শেয়ার করব, কীভাবে আপনি এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লিখতে পারবেন।

চলুন শুরু করা যাক।

ধাপ-১: প্রুভেন টপিক সেলেক্ট করুন

আর্টিকেল এমন টপিক এ লিখতে হবে, যে টপিক নিয়ে অনেক মানুষ ইন্টারেস্টেড। যে টপিক জনপ্রিয়, ট্রেন্ড চলছে এমন টপিক।

আর্টিকেল লিখার টপিক এর জন্য সবথেকে বেস্ট ওয়ে হলো “কুয়োরা“।

কুয়োরা একটি সোশ্যাল ফোরাম সাইট। এখানে মানুষ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করে, উত্তর দেয়। সেই প্রশ্ন থেকেও আপনি লেখালেখির একটা টপিক পেতে পারেন অনায়াসে!

যেমন যদি আমি কুয়োরাতে লিখে সার্চ মারি ” এসইও” তাহলে নিচের ছবির মতো রেজাল্ট শো করবে।

কুয়োরা থেকে টপিক নির্বাচন

এখন সেখানে এসইও রিলেটেড একটি প্রশ্ন হলো “কীভাবে ব্লগ এ এসইও করবেন?”। এখন আমি এই টপিক সেলেক্ট করলাম। কীভাবে ব্লগ এ এসইও করব সেই নিয়ে খুটিনাটি তথ্য দিয়ে আর্টিকেল লিখে ফেললাম।

এছাড়াও লেখালেখির জন্য টপিক সেলেক্ট করার আরেকটি সর্বোত্তম উপায় বিভিন্ন কী ওয়ার্ড রিসার্চ টুলস। যেমন মজ, উবার সাজেস্ট, এসইএম রাশ ইত্যাদি।

উবার সাজেস্ট থেকে কী ওয়ার্ড ও টপিক আইডিয়া

এসব কী ওয়ার্ড রিসার্চ টুলস এ আপনি নির্দিষ্ট একটি কী ওয়ার্ড সার্চ করলে, রিলেটেড কী ওয়ার্ড, ঐ কী ওয়ার্ড দিয়ে তৈরি অন্য কী ওয়ার্ড শো করবে। সেখান থেকে আপনি কোন টপিক এ কীভাবে লিখবেন তার একটি ধারণা পেয়ে যাবেন।

ধাপ-২: হেডলাইন অপটিমাইজ করুন

একটি জরিপ এ দেখা গেছে, ৮০% মানুষ হেডলাইন পড়ে আর্টিকেল পড়ার সিদ্ধান্ত নেয়!

সুতরাং আপনার হেডলাইন বা টাইটেল যদি সুন্দর, আকর্ষণীয় না হয়, তাহলে বিরাট পরিমাণ ট্রাফিক হারাবের আপনি।

অপটিমাইজড হেডলাইন সিটিআর বাড়াতে সাহায্য করবে। আর সিটিআর বাড়লে, গুগল আপনার ওয়েবপেজ প্রথম পেজ এ প্রথমে শো করাতে দেরি করবে না!

হেডলাইন এ কিছু ফ্রেজ ব্যবহার করুন। ফ্রেজ ব্যবহার করা হেডলাইন এ ক্লিক, অন্যন্য হেডলাইন এর ক্লিক থেকে বেশি। কীভাবে, যেভাবে, কেন, বেস্ট, how to, why, things you, this is how ইত্যাদি ফ্রেজ ব্যবহার করেন।

Buzzsumo প্রায় ১০০ মিলিয়ন হেডলাইন রিসার্চ করে কিছু তথ্য দিয়েছে। যেমন:

টপ হেডলাইন ফ্রেজ (ছবি: Buzzsumo হতে সংগৃহীত)

হেডলাইন এ একটি ব্র্যাকেট ব্যবহার করুন। ব্র্যাকেট ব্যবহার করা হেডলাইনে ৩৮% বেশি সিটিআর!

যেমন “অন পেজ এসইও এর আদ্যোপান্ত” হেডলাইন এ একটি আর্টিকেল লিখলেন। এখন এই হেডলাইন এ একটি ব্র্যাকেট ব্যবহার করুন এভাবে “অন পেজ এসইও এর আদ্যোপান্ত (২০২০ আপডেটেড)”। তখন দেখবেন, বেশি ক্লিক পড়া শুরু হয়ে গেছে!

(ছবি: Buzzsumo হতে সংগৃহীত)

একটু লম্বা হেডলাইন ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। লম্বা হেডলাইনের আর্টিকেলে বেশি সোশ্যাল শেয়ার পাওয়া যায়। ১৪-১৫ শব্দের ভিতরে হেডলাইন লিখার চেষ্টা করুন।

ধাপ-৩: দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম ইন্ট্রোডাকশন রাখুন

আর্টিকেল এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইন্ট্রোডাকশন। আর্টিকেল এর প্রথম প্যারা যদি ভিজিটরের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম না হয়, তাহলে ভিজিটর বের হয়ে যাবে।

এতে বাউন্স রেট বৃদ্ধি পাবে। তখন গুগল লাথি মেরে আপনার ওয়েবসাইট নিচে নামিয়ে দিবে!

প্রথম প্যারা এমনভাবে লিখুন, যেন ভিজিটর পড়েই বুঝতে পারে কী নিয়ে লিখা হয়েছে এই আর্টিকেল।

ইন্ট্রোডাকশন এর নিচে একটি টেবিল অফ কন্টেন্ট ব্যবহার করুন।

টেবিল অব কন্টেন্ট এর উদাহরণ

ধাপ-৪: ভালো একটি পোস্ট লিখুন

ভালো পোস্ট লিখুন বলতে বুঝাতে চেয়েছি আপনার ব্লগ পোস্টকে ভালো করে সাজান, ইউজার ফ্রেন্ডলি পোস্ট লিখুন।

সাব হেডিং ব্যবহার করুন। সাব হেডিং ব্যবহার করলে ভিজিটর পোস্ট পড়তে সাচ্ছন্দ্য বোধ করবে। আর এসব সাব হেডিং ব্যবহার করে একটা টেবিল অফ কন্টেন্ট ব্যবহার করুন। সেই টেবিল অফ কন্টেন্ট আর্টিকেল এর ইন্ট্রোতে ব্যবহার করুন।

আর্টিকেল এ বেশি বেশি ভিজুয়াল ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। যেমন ছবি, ইনফোগ্রাফিক্স, স্ক্রিনশট, চার্ট, ভিডিও, জিআইএফ ইত্যাদি ব্যবহার করুন।

বেশি বড় সাইজের কোনো ভিজুয়াল ব্যবহার করবেন না। এতে লোডিং টাইম বৃদ্ধি পায়।

লিখার ফন্ট ১৬-২০ এর মধ্যে রাখার চেষ্টা করুন। ১৬-২০ ফন্ট সাইজ এর লিখা ভিজিটর পড়তে সাচ্ছন্দ্য বোধ করে।

সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন কুয়োট বা উক্তি ব্যবহার করার। সেই উক্তি যেন কুয়োট ট্যাগ এর মধ্যে রাখা হয়।

ধাপ-৫: সুন্দর একটি উপসংহার ব্যবহার করুন

একজন প্রফেশনাল ব্লগার জানে অপটিমাইজ ও সুন্দর উপসংহার কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ!

অনেকে আর্টিকেল দেখেছি আমি শেষে খুবই বাজে কয়েকটা লাইন দিয়ে শেষ করে। যেমন, “কেমন লাগল এই আর্টিকেল”, “ভালো লাগলে শেয়ার করুন”, ” এরকম আরো লেখা পেতে নিউজ লেটার সাবস্ক্রাইব করুন” ইত্যাদি। এরকম করবেন না কখনো!

উপসংহারের প্রথম লাইন এমনভাবে লিখুন, ভিজিটর যেন বুঝতে পারে আর্টিকেল শেষ।

উপসংহারে ভিজিটরদের জন্য একটা প্রশ্ন রাখুন। অবশ্যই সেটা যেন আর্টিকেলের সাথে মোস্টলি রিলেটেড হয়।

এবার আপনার টপিক আছে, হেডলাইন আছে, ভালো ইন্ট্রোডাকশন ও উপসংহার দিয়ে আর্টিকেল লিখলেন। এখন আপনাকে আসতে হবে মূল কাজে।

চলুন দেখা যাক এবার কী করতে হবে।

ধাপ-৬: এসইও এর জন্য আর্টিকেল অপটিমাইজ করুন

আর্টিকেল এর জন্য এসইও এর গুরুত্ব অপরিসীম!

আর্টিকেলের ইন্ট্রোডাকশন এ টার্গেটেড কী ওয়ার্ড ব্যবহার করুন।

আর্টিকেল এর ইউআরএল ছোট রাখার চেষ্টা করুন। ছোট ইউআরএল খুবই ভালো কাজ করে। গুগল নিজে এটা রিকমেন্ড করে শর্ট ইউআরএক ব্যবহার করার জন্য।

আর্টিকেল এ কমপক্ষে তিনটি ইন্টারনাল লিংক ব্যবহার করুন। আর্টিকেলের টপিকের সাথে রিলেটেড আর্টিকেল যেগুলো আপনার ওয়েবসাইট এ আছে, সেগুলো লিংক করে দেন।

ধাপ-৭: এবার আর্টিকেল প্রোমোট করুন

আর্টিকেল প্রোমোট করা এসইওতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কন্টেন্ট প্রোমোট করা বলতে অনেকে বুঝে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা। অবশ্যই না।

কন্টেন্ট আপনাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতে হবে। তবে সব সময় একই সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করবেন না৷ সব প্ল্যাটফর্মে ব্যালেন্স করে শেয়ার করুন।

নিউজ লেটার এর মাধ্যমে আপনি যে ই-মেইল গুলো কালেক্ট করেছিলেন, তাদের ই-মেইল করুন। ভিজিটর নিয়ে আসার অন্যতম একটি উপায় ই-মেইল।

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বেশি পরিমাণ ভিজিটর আসে ই-মেইল থেকে।

তো এই ছিল এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লিখার কিছু ট্যাকটিকস। এগুলো স্টেপ বাই স্টেপ ফলো করলে আশা করি আপনার আর্টিকেলে ভিজিটর আসতে শুরু হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *