কী-ওয়ার্ড রিসার্চ

কী ওয়ার্ড রিসার্চ: বিট দ্য এসইও ইন 2020 (পর্ব-৩)

এসইও অর্থাৎ সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর প্রধান তিনটি ধাপের প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো “কী ওয়ার্ড রিসার্চ”!

কী-ওয়ার্ড রিসার্চ একটা ভালো কোয়ালিটি সম্পন্ন তৈরি করার গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর৷

কী ওয়ার্ড ও কী ওয়ার্ড রিসার্চ কী?

কী-ওয়ার্ড কী? প্রথমত আমরা যা লিখে গুগল বা অন্য সার্চ ইঞ্জিন এ সার্চ করি, সেটাই কী-ওয়ার্ড। আপনার কন্টেন্ট এর কমন একটা শব্দ যে শব্দের জন্য আপনি আপনার কন্টেন্ট র‍্যাংক করাতে চান।

যেমন আপনি আপনার ওয়েবসাইট এ এসইও করাতে চান কোনো এজেন্সিকে দিয়ে। এখন আপনি যদি গুগল এ সার্চ করেন ” SEO agency near me” তাহলে গুগল আপনাকে কিছু রেজাল্ট শো করবে। আর এই “SEO agency near me” হল একটা কী-ওয়ার্ড।

SEO কী ওয়ার্ডের জন্য রেজাল্ট পেজ
SEO কী ওয়ার্ডের জন্য গুগল এর রেজাল্ট পেজ

কী-ওয়ার্ড রিসার্চ করা তেমন কঠিন কিছু না। এর জন্য কোনো কোর্স করতে হবে না। প্রচুর ব্লগ আছে ইন্টারনেট এ, প্রচুর ভিডিও আছে ইউটিউব এ।

কী ওয়ার্ডের ক্যাটাগরি

কী-ওয়ার্ড নিয়ে রিসার্চ করার আগে আপনাদের কী-ওয়ার্ডের তিনটি ক্যাটাগরি নিয়ে বলে ফেলি। দৈর্ঘ্যের ভিত্তিতে কী-ওয়ার্ড ৩ প্রকার৷ ১. শর্ট টেইল কী-ওয়ার্ড ২. মিড টেইল কী-ওয়ার্ড আর ৩. লং টেইল কী-ওয়ার্ড

শর্ট টেইল কী ওয়ার্ড

শর্ট টেইল কী-ওয়ার্ড সাধারণত একটি শব্দ ও নির্দিষ্ট থাকে। যেমন উপরের কী-ওয়ার্ডকে যদি হালকা পরিবর্তন করে এভাবে লিখি “SEO agency”, তাহলে এটা হবে শর্ট টেইল কী-ওয়ার্ড।

মিড টেইল কী ওয়ার্ড

মিড টেইল কী-ওয়ার্ড এ একটি শর্ট টেইল কী-ওয়ার্ড বা মূল কী-ওয়ার্ড থাকে ও সাথে দুই তিনটি শব্দ থাকে। যেমন উপরের কী-ওয়ার্ডটি মিড টেইল কী-ওয়ার্ড।

লং টেইল কী ওয়ার্ড

লং টেইল কী-ওয়ার্ড একদম সুনির্দিষ্ট। এতে একটি শর্ট টেইল কী-ওয়ার্ড থাকে ও কয়েকটি শব্দল। লং টেইল কী-ওয়ার্ড এর মধ্যে সার্চ ইঞ্জিনকে একদম সুনির্দিষ্টভাবে বলে দেওয়া হয় কী চাই। যেমন ” Best SEO agency in 2020 near me”। এই কী-ওয়ার্ড দ্বারা সার্চ ইঞ্জিনকে বলা হলো আমি আমার আশে পাশে ২০২০ সালের সেরা এসইও এজেন্সি খুজছি।

কী ওয়ার্ড রিসার্চের প্রথম ধাপ

এখন আসা যাক মূলভাবে।

কী-ওয়ার্ড রিসার্চ করার আগে আপনাকে কন্টেন্ট এর টপিল সেলেক্ট করতে হবে। একটা টপিক সেলেক্ট করার পর একটা মূল কী-ওয়ার্ড বা ফোকাসড কী-ওয়ার্ড সেলেক্ট করতে হবে আপনাকে। যে কী-ওয়ার্ড এর জন্য কন্টেন্টকে আপনি র‍্যাংক করাতে চান। যেমন আপনি আর্টিকেল লিখবেন কীভাবে ব্লগ তৈরি করবেন এই টপিক এ৷

এখন আপনার ফোকাসড কী-ওয়ার্ড হলো “কীভাবে ব্লগ তৈরি করবেন“। এই কী-ওয়ার্ড এর জন্য আপনি আপনার কন্টেন্ট কে গুগল এ ইনডেক্স করাতে চান।

এরপর আপনার রিসার্চ এর পালা। আপনাকে এই কী-ওয়ার্ডের কিছু পরিসংখ্যান দেখতে হবে। রিলেটেড কী-ওয়ার্ড খুজে বের করতে হবে, পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন পরিসংখ্যান দেখতে হবে।

দেখে আপনাকে কয়েকটি কী-ওয়ার্ড বাছাই করতে হবে। তারপর সেই কী-ওয়ার্ডগুলো ব্যবহার করে আর্টিকেল লিখতে হবে।

কী-ওয়ার্ডের কয়েকটি ফ্যাক্টর

কী-ওয়ার্ড সেলেক্ট করার সময় আপনাকে কিছু ফ্যাক্টরের দিকে নজর দিতে হবে। যেমন:


এসডি বা এসইও ডিফিকাল্টি: এসইও ডিফিকাল্টি ১০০ এর মধ্যে দেওয়া হয়। কোনো কী-ওয়ার্ড এর জন্য গুগল এ ইনডেক্স করা কতটুকু ডিফিকাল্ট তার একটি পরিমাপ হল এসডি। এমন কী-ওয়ার্ড বাছাই করতে হবে যার এসইও ডিফিকাল্টি কম। ৩০ এর বেশি এসডি সম্পন্ন কী-ওয়ার্ড বাছাই না করাই ভালো। তবে যদি আপনার সেই আত্মবিশ্বাস থাকে যে আপমার কন্টেন্ট এর কোয়ালিটি অতি উচ্চ ও ভালো করে অন পেজ অপটিমাইজেশন করা, তাহলে হাই এসডি সম্পন্ন কী-ওয়ার্ড সেলেক্ট করতে পারেন।


সার্চ ভলিউম: সার্চ ভলিউম হলো একটা কী-ওয়ার্ড এভারেজ কতবার সার্চ করা হয়েছে। এটি একটি গড় হিসাব। মোটামুটি ভালো সার্চ ভলিউম আছে এমন কী-ওয়ার্ড সেলেক্ট করাই উত্তম।

তবে মাথায় রাখবেন সার্চ ভলিউম যত বেশি হবে, ট্রাফিক পাওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি। কিন্তু এসইও ডিফিকাল্টি অনেক বেশি।

আপনার কন্টেন্ট এর মানের উপর ভিত্তি করে সার্চ ভলিউম সম্পন্ন কী-ওয়ার্ড সেলেক্ট করুন৷

কম্পিটিশন: এটা একটা মেট্রিক। একটা কী-ওয়ার্ড এর কম্পিটিশন কতটুকু তা low, mid ও high এই তিনটি ওয়ার্ড দিয়ে শো করে। কী-ওয়ার্ড সেলেকশন এর ক্ষেত্রে এই তিনটি বিষয় মাথায় রেখে কী-ওয়ার্ড সেলেক্ট করবেন।

আপাতত এই তিনটি ফ্যাক্টর মাথায় রেখে কাজ করলেই হবে। যদি সার্চ ইঞ্জিন এ পেইড এড শো করাতে চান, তাহলে অন্যান্য বিষয় আছে মাথায় রাখতে হবে। অন্যদিন এ নিয়ে লিখব৷

কিছু প্রয়োজনীয় টুলস

কী-ওয়ার্ড রিসার্চ করার জন্য আপনাকে কতগুলো টুলস ব্যবহার করতে হবে। কোনো কী-ওয়ার্ড এর সার্চ ভলিউম কতটুকু, এসইও ডিফিকাল্টি কতটুকু, রিলেটেড কী-ওয়ার্ড খুজে বের করা ইত্যাদি আপনি খুব সহজে করতে পারবেন কিছু টুলস ব্যবহার করে।

আমি এখানে কতগুলো ফ্রী ও প্রিমিয়াম টুলস এর বিস্তারিত বলছি।

Ubersuggest: এটা বিখ্যাত এসইও এক্সপার্ট নেইল পাটেল এর একটি ওয়েবসাইট। উবারসাজেস্ট এর এক্সটেনশনও পাওয়া যায়। আমি বেশিরভাগ সময় এটা ব্যবহার করি। এখানে সার্চ বক্স এ কী-ওয়ার্ড টাইপ করলে একটা কী-ওয়ার্ড এর সব পরিসংখ্যান দেখতে পাবেন।

কী ওয়ার্ড রিসার্চ এর জন্য Ubersuggest
Ubersuggest টুলস

Moz: Moz একটা জনপ্রিয় কী-ওয়ার্ড রিসার্চ টুলস। এর এক্সটেনশনও ব্যবহার করতে পারবেন আপনি। এটারও ব্যবহারবিধি সেম।

Moz এর কী ওয়ার্ড রিসার্চ টুলস
Moz কী ওয়ার্ড রিসার্চ টুলস

Ahref: Ahref একটা বিখ্যাত কী-ওয়ার্ড রিসার্চ এক্সটেনশন। এটাও প্রায় MozBar এর মত।

Google Keyword Planner: গুগল কী-ওয়ার্ড প্ল্যানার দিয়ে পেইড এড এর পাশাপাশি কী-ওয়ার্ড রিসার্চও করতে পারবেন!

Semrush: এটাও খুব জনপ্রিয় একটা টুলস। কম্পিটিটর এনালাইস, কী-ওয়ার্ড এনালাইসিস সব করতে পারবেন এতে।

এখানে যে ৫ টি টুলস এর কথা বলেছি তা ফ্রীতে ব্যবহার করা যায়। কোনোটা কয়েকবারের বেশি ফ্রীতে ব্যবহার করা যায় না। অবশ্য ফ্রীতে ব্যবহার করলে তেমন ফিচার আপনি পাবেন না। তাই আমি সাজেস্ট করব টুলসগুলোর প্রিমিয়াম ভার্সন ব্যবহার করতে।

কী ওয়ার্ডের ব্যবহার

এখন আসা যাক মূল বিষয়ে। কী-ওয়ার্ডের ব্যবহার। আগেই বলেছি কী-ওয়ার্ড রিসার্চ ভালো কোয়ালিটি সম্পন্ন কন্টেন্ট তৈরির গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর৷

কন্টেন্ট এর জন্য কয়েকটি কী-ওয়ার্ড সেলেক্ট করার পর আপনাকে সেই কী-ওয়ার্ডগুলো ব্যবহার করতে হবে। সেই কী-ওয়ার্ডগুলো ব্যবহার করে কন্টেন্টকে অপটিমাইজ করতে হবে।

• ফোকাসড কী-ওয়ার্ড কন্টেন্ট এর টাইটেল এ রাখতে হবে।
• ফোকাসড কী-ওয়ার্ড মেটা ডিস্ক্রিপশন এ দিতে হবে।
• আর্টিকেল এর প্রথম ১০০ শব্দের ভিতরে ফোকাসড কী-ওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে।
• বাছাইকৃত কী-ওয়ার্ডগুলো আর্টিকেল বা কন্টেন্ট এ ব্যবহার করতে হবে।
• কী-ওয়ার্ডগুলোর ঘনত্ব যেন বেশি না হয় খেয়াল রাখতে হবে।

ধরুন “কীভাবে ব্লগ তৈরি করবেন” এটা আপনার ফোকাসড কী-ওয়ার্ড। এখন আপনি একটি আর্টিকেল লিখলেন। এখন সেই আর্টিকেল এর টাইটেল এ এই ফোকাসড কী-ওয়ার্ড থাকতেই হবে। মনে করি টাইটেল হলো “কীভাবে ব্লগ তৈরি করবেন: ৫টি সহজ ট্রিকস, ভিডিও টিউটোরিয়াল সহ”।

এবার এই ফোকাসড কী-ওয়ার্ড আর্টিকেলটির মেটা ডিস্ক্রিপশন এ ব্যবহার করবেন।

আর্টিকেল এর প্রথম ১০০ শব্দের ভিতরে ফোকাসড কী-ওয়ার্ড রাখবেন। যেমন প্রথম প্যারায় একটা লাইন লিখে দিলেন ” আজ আপনাদের দেখাবো কীভাবে ব্লগ তৈরি করবেন”।

চেষ্টা করতে হবে আর্টিকেল এর সাব হেডিং এ যেন একবার ফোকাসড কী-ওয়ার্ড দেওয়া যায়।

এখন ধরি ফোকাসড কী-ওয়ার্ড ছাড়াও অন্যান্য কয়েকটা কী-ওয়ার্ড হলো ” ব্লগ তৈরির নিয়ম”, “ব্লগ তৈরি”, ” ব্লগ সাইট” ইত্যাদি।

এখন এই কী-ওয়ার্ড গুলো আপনার আর্টিকেল এ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে লিখতে হবে। প্রতিটি প্যারায় এবং কী-ওয়ার্ড ব্যবহার এর চেষ্টা করতে হবে। আর্টিকেল এর সাব হেডিং এ ব্যবহার করতে হবে৷

সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন ইউআরএল এ যেন ফোকাসড কী-ওয়ার্ড ব্যবহার করা যায়।

কী-ওয়ার্ডের ঘনত্ব যেন বেশি না হয় সেদিকে সর্বোচ্চ নজর রাখতে হবে। ১০ লাইনের প্যারায় ১০ বার ফোকাসড কী-ওয়ার্ড দিলেন, তাহলে চলবে না। এগুলো ব্ল্যাক হ্যাট এসইও এ আওতায় পড়ে কিন্তু।

গুগল বা অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিন এখন খুবই স্মার্ট। মূহুর্তের মধ্যে ধরে ফেলতে পারবে। তখন এক ধাক্কায় আপনার ওয়েবসাইটকে একদম নিচে নামিয়ে দিবে, আর উঠতে পারবেন না।

এসইও ও ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে যেকোনো কনসাল্টেন্সি এর জন্য যোগাযোগ করুন এখানে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *