কী-ওয়ার্ড রিসার্চ

যেভাবে এসইও পারফরম্যান্স ট্র্যাক ও এনালাইসিস করবেন

এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর ফলাফল রাতারাতি পাওয়া যায় না। কিছুটা সময় নেয়। কিন্তু এসইও করবেন, আর এসইও পারফরম্যান্স এনালাইসিস বা ট্র্যাক করতে পারবেন না এমন তো হবে না।

আপনাকে নিয়মিত এসইও এর রেজল্ট ট্র্যাক করতে হবে, কিছু টুলসের সাহায্যে এসইও পারফরম্যান্স এনালাইসিস করতে হবে।

তো চলুন জেনে নেওয়া যাক যে ৭ টি উপায়ে আপনি এসইও পারফরম্যান্স এনালাইসিস ও ট্র্যাক করতে পারবেন।

ট্র্যাফিক

কমপক্ষে সপ্তাহে একবার আপনার ওয়েবসাইটের ট্র্যাফিক এনালাইসিস করতে হবে। কতজন অর্গানিক সার্চ থেকে এসেছে, কতজন ভিজিটর সোশ্যাল মিডিয়া থেকে এসেছে ইত্যাদি নিয়ে স্টাডি করতে হবে।

আর আপনার এ কাজ একদম সহজ করে দিবে কিছু টুলস।

যেমম: গুগল এনালিটিক্স, বিং এনালিটিক্স ইত্যাদি।

এসব এনালিটিক্স টুলস এ আপনি আপনার ট্র্যাফিক নিয়ে বিশদ তথ্য পাবেন। এগুলো এনালাইসিস করে আপনি এসইও কতটুকু পারফরম্যান্স করল তার একটা ধারণা পেয়ে যাবেন।

লিড/ROI বা রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট/কনভারসন রেট

শুধু ট্র্যাফিক এনালাইসিস করে, এসইও এর সঠিক পারফরম্যান্স ট্র্যাক করতে পারবেন না।

আপনাকে এটাও হিসাব করতে হবে কতটি লিড জেনারেশন করতে পেরেছেন, কনভারসন রেট কতটুকু বৃদ্ধি পেয়েছে, ইনভেস্টমেন্ট কতটুকু রিটার্ন দিয়েছে ইত্যাদি।

এই তথ্যগুলোও আপনি এনালিটিক্স টুলসের মাধ্যমে খুব সহজে পেয়ে যাবেন।

কিছু ইনবাউন্ড মার্কেটিং টুলস যেমন হাফিংটনপোস্ট, আপনাকে এসইও রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট বের করতে সাহায্য করবে।

ইনডেক্সড পেজ

এসইও করার মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইটের গ্রোথ কতটা হয়েছে, তা দেখার সবথেকে সহজ উপায় হলো সার্চ ইঞ্জিনে কতটি পেজ ইনডেক্স করেছে তা হিসেব করা।

ওয়েবসাইট এর যতবেশি পেজ সার্চ ইঞ্জিনে ইনডেক্স করবে, ততই অন্যান্য কী-ওয়ার্ড এর জন্য র‍্যাংক করা সহজ হবে।

কতটি পেজ ইনডেক্স করেছে তা দেখার সহজ উপায় হলো গুগল সার্চ কনসোল

এছাড়াও আরেকটি উপায়ের মাধ্যমে আপনি সার্চ ইঞ্জিনেই আপনার ইনডেক্স করা সব পেজগুলো দেখতে পারবেন। “site query” এর মাধ্যমে আপনি এই কাজ সহজে করতে পারেন।

মেথডটি হলো গুগল এর সার্চ বক্সে এভাবে টাইপ করে সার্চ করুন “site:yoursitename.com“। অর্থাৎ  “site” লিখে একটি কোলোন দিয়ে আপনার ওয়েবসাইটের ডোমেইন লিখে সার্চ দিন।

দেখবেন গুগল শুধু ঐ পেজগুলো দেখাবে যেগুলো ইনডেক্স করা আছে।

ইনবাউন্ড লিংক

ইনবাউন্ড লিংক হলো ঠিক কতটি অন্য ওয়েবসাইট আপনার ওয়েবসাইটকে লিংক দিয়েছে, বা লিংকের মাধ্যমে কানেক্ট করেছে।

ইনবাউন্ড লিংকের মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন সাইটের অফ পেজ এসইও কতটুকু সফল হয়েছে।

এই মেট্রিক্সটি আপনি গুগল সার্চ কনসোলেও পেয়ে যাবেন।

এছাড়াও অন্যান্য টুলস আছে যেমন: হাফপোস্ট, উবারসাজেস্ট, Ahref, মজ ইত্যাদি।

কমপক্ষে মাসে একবার এই মেট্রিক্স দেখুন। উন্নতি হলো না অবনতি হলো সেটা ট্র্যাক করুন।

কী-ওয়ার্ড

সেই সকল কী-ওয়ার্ডের লিস্ট করুন, সেগুলো দিয়ে আপনার ওয়েবসাইট র‍্যাংক করেছে। বা যে কী-ওয়ার্ডের মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইটে অর্গানিক ট্র্যাফিক আসে।

সেগুলো এনালাইসিস করুন। কোন কী-ওয়ার্ড থেকে বেশি ভিজিটর এসেছে, বেশি কনভারসেশন রেট এসেছে ইত্যাদি ট্র্যাক করুন।

এই কাজটি প্রতি মাসে একবার করুন। এটা করলে আপনি মোটামুটি একটা ধারণা পাবেন এসইও আরো স্ট্রং করা দরকার বা ডিজাইনে কোনো চেঞ্জ আনা দরকার কিনা।

র‍্যাংকিং

এমন দশটি কী-ওয়ার্ডের লিস্ট করুন, যে কী-ওয়ার্ডের জন্য আপনি সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংক করতে চান।

তারপর প্রতি মাসে একবার সেই কী-ওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করে দেখুন সার্চ ইঞ্জিনে আপনার অবস্থান কোথায়।

সেটা নিয়মিত করে এনালাইসিস করুন। এটা করার মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই বুঝতে পারবেন এসইও ভালোমতো কাজ করছে কিনা।

টেকনিক্যাল স্ট্যাটাস

নিয়মিত সাইটের টেকনিক্যাল স্ট্যাটাস চেক করুন।

কোনো ব্রোকেন পেজ আছে কিনা, ব্লকড পেজ বা ক্রাউলড হচ্ছে না এমন পেজ আছে কিনা, সার্ভারে সমস্যা, সোর্স কোডে ইরর ইত্যাদি নিয়মিত চেক করুন। অত্যন্ত মাসে দুইবার।

টেকনিক্যাল স্ট্যাটাস গুগল সার্চ কনসোলের মাধ্যমেও পেয়ে যাবেন। এছাড়াও উবারসাজেস্ট খুব ভালো একটি টুলস টেকনিক্যাল স্ট্যাটাস চেক করার জন্য!

রিমাইন্ডার

এত কষ্ট করে এসইও করবেন, বা এত টাকা খরচ করে এসইও করবেন আর এর ফলাফল কী দেখবেন না এটা তো হয় না।

উপরের ৭ টি বিষয় নিয়মিত চেক করুন, স্টাডি করুন। ইমপ্রুভমেন্ট না হলে এসইও এক্সপার্টের সাথে পরামর্শ করুন।

উপরের কোন বিষয়ে আপনার ওয়েবসাইটে ইম্প্রুভমেন্ট আছে তা কমেন্ট করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *