বামন গ্রহ প্লুটো

গ্রহের গল্প: বামন গ্রহ প্লুটো

নীল গ্রহ নেপচুন থেকে অনেক আগেই তল্পিতল্পা গুটিয়ে ফেলতে হয়েছে।’নীল নীল নীলাঞ্জনা’ গানটা গেয়েও তেমন ফল মেলেনি।বুকে ভোলাগঞ্জের বিশাল পাথর বেঁধে এবার রওনা দিলে বামন গ্রহ প্লুটো এর দিকে। শুভ যাত্রা!🙂

কুইপার বেল্টের হাজারটা জঞ্জাল পাড়ি দিয়ে যখন তুমি প্লুটো এর কাছে পৌঁছালে তখন মনের মধ্যে কীরকম জানি কু ডাক শুরু হলো। পাতালপুরীর এ দেবতার উপর আরোহণের আগেই যেন কেউ ঘণ্টা বাজিয়ে তোমায় সতর্ক করে দিচ্ছে।
মিরাকেলের মতো আসা সতর্কবাণীকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নামতে শুরু করতেই তোমার কাছে সবকিছুই অদ্ভুতভাবে ১৫ গুণ স্লো মোশনে চলতে শুরু করল।
স্লো মোশন ড্রামা অনেক্ষণ চলার পর অবশেষে তুমি আস্তে করে সারফেসে ল্যান্ড করলে।ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া গ্লাস পরিস্কার করতেই রক্ত, মস্তিষ্ক,হাত-পা, শরীরের প্রতিটি অর্গানই হিম করে দেওয়ার মত যথেষ্ট ভয়ংকর দৃশ্য নজরে আসলো। অন্ধকার এ পাতালপুরীর রাজ্যে আর কেউ নেই!
শুধু তুমি আর বরফ,বরফ আর তুমি!
আর বোনাস হিসেবে চারপাশে হাজারটা গ্রহাণু আর তারা।

বামন গ্রহ প্লুটো
বামন গ্রহ প্লুটো (ছবি নাসা হতে সংগৃহীত)


প্লুটো আঙ্কেলের ভিতরে শক্তপোক্ত পাথর থাকলেও বাইরে শুধুই বরফের কারখানা!গলন্ত অবস্থায় এগুলো দেখতে চাইলে আরো ২৪৮ বছর অপেক্ষা করতে পারো যাতে সুয্যিমামা ওগুলো গলিয়ে দেন।তখন হয়তো ঝামেলা আরো বাড়বে!নাইট্রোজেন,মিথেন হ্যারি পটারের ডিমেন্টরদের মতো বাতাসে ভেসে বেড়াবে যা তোমার ফুসফুসের জন্য খুব একটা উপকারী না।লাভের মাঝে লাভ কয়েকটা চুপসানো পটেটো চিপস ফুলিয়ে নিতে পারো।
সারফেসের -২২৩° সেলসিয়াস তাপমাত্রাটাও আরামদায়ক না, তোমার মতো হোমো স্যাপিয়েনসকে জমিয়ে ফেলার জন্য যথেষ্ট। স্পেইস সুটটার ওপরও ভরসা রাখা যায় না, হাজার হলেও গুলিস্তানের জিনিস।
এখন সুয্যিমামাকে ডাকা ছাড়া উপায় নেই।
কেন যে ছোটোবেলায় শুধু চাঁদ মামাকে ডাকা শিখলে এটা ভেবে এখন হেলমেটের ওপর দিয়ে চুল ছিঁড়ার চেষ্টা করছ।চুল ছিঁড়েও লাভ হবে বলে মনে হচ্ছে না। পৃথিবীতে বসে আগে শুক্রের আলো নিয়ে যে টিটকারী মারতে সেই একই টিটকারী এখন তোমার ওপর রিভার্স হয়ে এসে পড়েছে।১০০০ গুণ মলিনতায় জীবন টেকানোর ফন্দি আঁটা উচিত হবে না।
অর্ধেক আমেরিকার সাইজের এ বামন গ্রহে হাঁটতে বের হয়ে বারবার পা পিছলে যাচ্ছে।স্পেইস সুটের বারোটা বাজার ভয়ে কয়েকটা হার্ট বিটও মিস হচ্ছে। ১৫৩ ঘণ্টার দিনটা যেন কাটছেই না।হঠাৎ নজরে আসলো মৃত্যুপুরীর আত্মাকে বয়ে নিয়ে চলা মাঝি শেরনকে।মিথ যাই বলুক,দুজনের মাঝে টাইডাল লকের মতো অদ্ভুত, তোমার মুখ না দেখলে দিন কাটে না টাইপ ব্যবস্থা দেখে তোমার মনে হতেই পারে যে ওরা ৪ সন্তান কনসিস্ট করা হ্যাপি ফ্যামিলির জনক জননী।
হ্যাপি ফ্যামিলি দেখে তোমারও ফ্যামিলির কথা মনে পড়ে গেল।যাদের কাছে এখন আলোর বেগে মেসেজ পাঠালেও প্রায় ৪.৫ ঘণ্টা লাগবে পৌঁছাতে।

একটু পরেই ৩৫০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বইতে শুরু করল।
টেনজিং মন্টে নামক ৬ কি:মি: উচু পর্বতের নিচে আশ্রয় নিয়েও ঝড় থেকে বাঁচার সম্ভাবনা আছে বলে মনে হচ্ছে না।ঝড়ের সাথে সাথে হালকা নীল আকাশে লাল রঙের তুষার বইতে শুরু করল। নস্টালজিয়া ফিল না করে এখনই পালাতে হবে।
বেঁচে থাকলে ফায়ারপ্লেসের পাশে বসে পৃথিবীর শ্বেত শুভ্র তুষারই না হয় দেখা যাবে।
তুমি প্লুটোর মায়া কাটিয়ে অনেক দূর চলে এসেছে।দূর থেকে টমবাউ রেজিও নামক হার্ট শেপড ভালোবাসা নজরে পড়ল।যে ভালোবাসা শুধুই শেরনের জন্য!

[নাঈম ভাইয়ার গ্রহ সিরিজের জন্য লেখা তাই তুমি সম্বোধন করা।]

তথ্যসূত্র:
১.DK Planets
২.https://solarsystem.nasa.gov/planets/dwarf-planets/pluto/overview/
৩.https://www.space.com/amp/43-pluto-the-ninth-planet-that-was-a-dwarf.html
৪.https://www.nationalgeographic.com/science/space/solar-system/dwarf-planets-pluto-ceres/
৫.https://en.m.wikipedia.org/wiki/Pluto
৬.https://www.space.com/amp/28971-how-to-live-on-pluto.html
৭.Nat Geo 101 Pluto

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *