এসইও কী? – ফান্ডামেন্টাল অব এসইও

এসইও কী? খায় পড়ে না মাথায় দেয়?

এসইও কী? এসইও মানে হলো সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন। এটা এমন একটি প্রক্রিয়া যেটার মাধ্যমে কোনো ওয়েবসাইট বা কন্টেন্টকে সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাংক করে ও অর্গানিকভাবে ভিজিটর নিয়ে আসে। এর মানে এই না যে সার্চ ইঞ্জিনকে অপটিমাইজেশন করা লাগে। অপটিমাইজেশন করতে হবে আপনার ওয়েবসাইট বা কন্টেন্টকে, ঐ সার্চ ইঞ্জিন এর জন্য! আপনাকে কিছু পদ্ধতি ফলো করতে হবে, সাইটের সবকিছু অপটিমাইজেশন করতে হবে। প্রোপারলি এসইও করতে পারলে সার্চ ইঞ্জিন আপনার ওয়েবসাইট তাদের রেজাল্ট পেজ এ শো করবে৷

গুগল এর মাধ্যমে উদাহরণ দেই৷ ধরুন আপনার ওয়েবসাইট এ একটা ব্লগ আছে private jet price in Bangladesh নামে। এখানে প্রাইভেট জেট এর গুনাগুন, দাম, কোথায় পাওয়া যাবে, দোষ-গুন ইত্যাদি সকল স্পেসিফিকেশন তুলে ধরলেন৷ এখন কেউ যদি গুগল এ সার্চ দেয় “private jet price in Bangladesh” লিখে তবে গুগল রেজাল্ট পেজ এ প্রথমে শো করবে এই কী-ওয়ার্ডের জন্য লেখা অন্য কোনো ওয়েবসাইট এর ব্লগকে। আপনার ব্লগটি খুজেও পাওয়া যাবে না। কারণ এসইও করা নেই৷

এসইও কী-ওয়ার্ডের জন্য রেজাল্ট পেজ
SEO কী-ওয়ার্ড এর জন্য গুগল এর রেজাল্ট পেজ

এখন আপনি যদি সুন্দর করে প্রথমে কন্টেন্ট, পেজ, ওয়েবসাইট ইত্যাদি অপটিমাইজ করেন, স্টেপ বাই স্টেপ এসইও এর কাজগুলো করে যান, কোয়ালিটিপুর্ণ ও ইউনিক লেখা লিখেন তাহলে আশা করা যায় গুগল আপনার সেই ওয়েবসাইট রেজাল্ট পেজ এর প্রথম ১০ টার একটায় শো করবে! আর আপনার ওয়েবসাইট যদি গুগল এ র‍্যাংক করে সেখান থেকে অনেক বেশি ভিজিটর আসবে। কারণ সবাই গুগল এর ফার্স্ট রেজাল্ট পেজ এ সব উত্তর পেয়ে যায়৷ বলা হয়ে থাকে একটা লাশ লুকিয়ে রাখার জন্য সবথেকে পারফেক্ট প্লেস গুগলের রেজাল্ট পেজ এর দ্বিতীয় পেজ! জোকস এ পার্ট ছিল।

এসইও কী ও এর গুরুত্ব

এসইও এর গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে অর্গানিক বা পটেনশিয়াল ভিজিটর নিয়ে আসার জন্য। প্রচলিত বিজ্ঞাপন ব্যবস্থায় পটেনশিয়াল বা টার্গেটেট ভিজিটর তুলনামূলক কম পাওয়া যায়।

ধরুন আপনি নিউজপেপার এ বিজ্ঞাপন দিলেন “জিম সেন্টার” এর জন্য৷ কিন্তু প্রচুর মানুষ নিউজপেপার পড়ে, এর মধ্যে ছেলে, বুড়ো, যুবক অনেকেই পড়ে। যারা জিম করতে ইচ্ছুক তারা এই বিজ্ঞাপন পড়বেই, কিন্তু অন্যরা? যেমন কিশোর, তরুনি, গৃহীনি, বুড়োরা? তারা বিজ্ঞাপন পড়বে, কিন্তু পড়ে লাভ নেই। তারা জীবলেও জিম সেন্টার এ যাবে না। অর্থাৎ এত টাকা খরচ করে বিজ্ঞাপন দেওয়া হলো, টার্গেটেড কাস্টমার পাওয়া যাবে তুলনামূলক কম।

কিন্তু যদি আপনার জীম সেন্টার এর একটি ওয়েবসাইট থাকে, ও একজন এসইও এক্সপার্টকে দিয়ে ভালোভাবে এসইও করিয়ে নেন ও গুগল সেটাকে র‍্যাংক এ নিয়ে আসে তখন কী হবে? যার জীমে যাওয়ার ইচ্ছা সে গুগল এ এমনিতেই সার্চ মারবে জীম সেন্টার ইন সিলেট। রেজাল্ট পেজ এ প্রথমেই শো করবে আপনার ওয়েবসাইট, সে ভিজিট করবে। এমনও হতে পারে সে ভিজিট করার পর আপনার কাস্টমার হয়ে যাবে! অর্থাৎ এই প্রক্রিয়ায় শুধু পটেনশিয়াল ভিজিটর পাওয়া যায়!

একটা উদাহরণ দেই। সিলেটের চায়না মার্কেট এ লম্বা একটি করিডরের দুইপাশে অনেকগুলো দোকান দুই কলাম এ৷ এখন সেই মার্কেট এ কেউ যদি যায় প্রথমেই কোন দোকানে ঢুকবে? অবশ্যই প্রথম দোকানে! সে প্রথমেই একদম শেষের দোকানে যাবে না।
ঠিক এভাবেই কেউ যদি “private jet price” লিখে সার্চ মারে, তাহলে সে রেজাল্ট পেজ এর একদম শেষে প্রথমে যাবে না। সে প্রথমে ক্লিক করবে রেজাল্ট পেজ এর প্রথমে যে ওয়েবসাইট থাকবে সেটায়। তারপর দ্বিতীয়টায়। যদি তার মনমতো উত্তর না পায় তৃতীয়টায়৷

আর এসইও করার মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইট গুগল এর টপ র‍্যাংকিং এ আসা শুরু করবে। আর টপ র‍্যাংক এ আসা মানে প্রচুর অর্গানিক ও পটেনশিয়াল ভিজিটর পাওয়া! কিন্তু শুধু এসইও করলে হবে না, এসইও এর র‍্যাংকিং ফ্যাক্টর আছে কতগুলো সেগুলো মেনে এসইও করতে হবে।

এসইও র‍্যাংকিং ফ্যাক্টর

র‍্যাংকিং এর জন্য শুধুমাত্র গুগলের প্রায় ২০০ ফ্যাক্টর আছে। যা গুগল তাদের বিজনেস পলিসির জন্য প্রকাশ করে না। শুধু প্রধান কয়েকটি র‍্যাংকিং ফ্যাক্টর সবার জানা আছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো:
১. ইউজার ইন্টিগ্রেশন
২. ডোমেইন ফ্যাক্টর
৩. কোয়ালিটি
৪. ব্যাকলিংক ফ্যাক্টর
৫. বাউন্স রেট
৬. মোবাইল অপটিমাইজেশন
এগুলো নিয়ে বিস্তারিত পরে আরেকটি আর্টিকেল এ লিখব। গুগল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সি ব্যবহার করে। তাই এই কাজগুলো সঠিকভাবে সম্পন্ন না করলে গুগল সহজেই ধরে ফেলতে পারবে।

এসইও এর ধাপ

এসইও এর প্রধান ধাপ তিনটি।
১. কী-ওয়ার্ড রিসার্চ: এটা এসইও করার প্রথম ও প্রধান ধাপ। আপনার আর্টিকেল এর এমন কিছু কী-ওয়ার্ড খুজে বের করতে হবে যে কী-ওয়ার্ড এর জন্য গুগল আপনার ওয়েবপেজকে র‍্যাংক করাবে৷ যেমন উপরের উদাহরণ এ “private jet price” এটি একটি কী-ওয়ার্ড৷ এই কী-ওয়ার্ড লিখে কেউ সার্চ করলে আপনার ওয়েবপেজ শো করবে।

২. অন পেজ অপটিমাইজেশন: এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আপনি কী-ওয়ার্ড রিসার্চ এর পর সেই কন্টেন্ট বা ওয়েবপেজ কে অপটিমাইজ করতে হবে৷ ওয়েবপেজ এর টাইটেল, ডিস্ক্রিপশন, মেটা টাইটেল, মেটা ডিস্ক্রিপশন, ট্যাগ, ক্যাটাগরি ইত্যাদি দিতে হবে। ইমেইজ, ইউনিক কন্টেন্ট, ভালো কোয়ালিটির আর্টিকেল অন পেজ অপটিমাইজেশন এর প্রধান ফ্যাক্টর৷ তাছাড়া সাইটের স্পিড, ডিজাইন ইত্যাদি অন পেজ অপটিমাইজেশন এর অংশ৷ অন পেজ অপটিমাইজেশন যদি ভালো থাকে তাহলে সব ভালো।

৩. অফ পেজ অপটিমাইজেশন: অফ পেজ অপটিমাইজেশন মানে হলো সেই ওয়েবসাইট বা কন্টেন্টকে মার্কেটিং করা৷ ব্যাকলিং ক্রিয়েট করা, সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার, সোশ্যাল ফোরাম এ শেয়ার, অন্য ওয়েবসাইটকে লিংক দেওয়া ইত্যাদি অফ পেজ অপটিমাইজেশন।

এসইও ও কস্ট পার ক্লিক

গুগল এর রেজাল্ট পেজ এ কম খরচে প্রথমে আসার কার্যকরী উপায় হলো এসইও৷ আপনি টাকা দিয়েও গুগল এর সার্চ পেজ এ র‍্যাংক করতে পারবেন। সেজন্য প্রতি ক্লিক এর জন্য আপনাকে টাকা গুনতে হবে। যেমন “private jet price” এই কী-ওয়ার্ড এর জন্য গুগল আপনাকে রেজাল্ট পেজ এর প্রথমে রাখবে। এবং কেউ যদি আপনার সেই ওয়েবপেজ এ ক্লিক করে, গুগল এই ক্লিক এর জন্য টাকা কেটে নেবে। এটাকে বলে কস্ট পার ক্লিক এডভার্টাইজমেন্ট। আপনি যেকোনো কী-ওয়ার্ড লিখে গুগল এ সার্চ করেন। দেখবেন রেজাল্ট পেজ এ প্রথম কয়েকটি ওয়েবসাইট এর নিচে ছোট করে Ad লেখা। এর মানে ঐ ওয়েবসাইট গুলো গুগলকে টাকা দেয়, ঐ নির্দিষ্ট কী-ওয়ার্ড এর জন্য র‍্যাংক করার জন্য!

SEO কী-ওয়ার্ড এর জন্য এই ওয়েবসাইট ডলার দিয়ে র‍্যাংক এ এসেছে

কিন্তু এসইও করলে আপনাকে গুগলকে বা সার্চ ইঞ্জিনকে টাকা দিতে হবে না। হয়তো এসইও এক্সপার্টকে টাকা দিতে হবে। আর যদি নিজে এসইও পারেন তাহলে তো কথাই নেই!

2 thoughts on “এসইও কী? – ফান্ডামেন্টাল অব এসইও”

  1. Pingback: হোয়াইট হ্যাট এসইও এবং ব্ল্যাক হ্যাট এসইও - অক্ষর

  2. Pingback: অন পেজ এসইও: এসইও ২০২০ (পর্ব-২) - অক্ষর

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *