seo, google, search

অন পেজ এসইও: এসইও ২০২০ (পর্ব-২)

অন পেজ এসইও এর  তিনটি বড় ক্যাটাগরি রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ও সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো “কন্টেন্ট”। 

কন্টেন্ট: অন পেজ এসইও এর প্রধান ফ্যাক্টর

কন্টেন্ট বলতে বুঝায় আর্টিকেল, ছবি, ভিডিও, ইনফো-গ্রাফিক্স, অডিও ইত্যাদি। 
মার্কেটিং সেক্টরে একটা জনপ্রিয় প্রবাদ আছে। ” কন্টেন্ট ইজ কিং“। এটা ১৯৯৬ সালে বিল গেটস ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন৷ এখন প্রতিটা ক্ষেত্রে সত্য প্রমাণিত হয়েছে!

 কারণ? কোনো সার্চ ইঞ্জিন এর ভিজিটর যা অনুসন্ধান করে, এবং ফলাফল সবথেকে বেস্ট উপায়ে পেয়ে যায় তখন সেই ভিজিটর খুশি হয়। তার আশাকৃত ফলাফল হতে পারে একটা আর্টিকেল বা ভিডিও বা অডিও৷ 
যখন আপনি গুগল এ সার্চ করবেন ” এসইও কী?” তখন গুগল সর্বোচ্চ চেষ্টা করে সবথেকে ভালো ফলাফল আপনার কাছে পৌঁছে দিতে। এবং গুগল পুরো নেটওয়ার্ক থেকে সর্বোত্তম ফলাফল আপনার সামনে উপস্থাপন করবে। 

অন পেজ এসইও
SEO কী-ওয়ার্ড এর জন্য রেজাল্ট পেজ


আপনি যে বিষয়ে জানতে চাইবেন, ঠিক সেই বিষয়ে ফলাফল উপস্থাপন করবে।

“এসইও কী?” সার্চ মারলে গুগল আপনাকে এটা দেখাবে না কীভাবে এসইও করতে হয়। এসইও কী, কেন ও এর ধারণা নিয়ে লেখা বা তৈরি করা সবথেকে বেস্ট কন্টেন্ট গুগল তুলে ধরবে৷ 


অর্থাৎ এর মানে হলো এসইও করতে হলে আপনাকে সর্বোত্তম কন্টেন্ট তৈরি করতে হবে। আর এটাই অন পেজ এসইও এর প্রথম ধাপ। 


বিশ্বাস করেন, আপনার কাছে যদি ভালো ও ইউনিক কন্টেন্ট না থাকে আপনি জীবনেও সার্চ ইঞ্জিন এ র‍্যাংক এ আসতে পারবেন না! এর জন্য আপনার কন্টেন্টকে হতে হবে বেস্ট! 
নিচে কয়েকটা ফ্যাক্টর দিয়েছি, এগুলো যদি আপনার কন্টেন্ট এ থাকে তবে সেটাকে বলা যাবে “বেস্ট কন্টেন্ট”! 

কোয়ালিটি: এখন কোয়লিটিই আপনাকে সবথেকে আলাদা ও উপরে রাখতে পারে! কোয়ালিটি শুধু কন্টেন্ট বা এসইও এর বেলায় নয়, যেকোনো ব্যবসার ক্ষেত্রেও প্রথম ধাপ৷ 
তবে দুর্দান্ত কোয়ালিটি সম্পন্ন কন্টেন্ট নিয়ে আসা মুখের কথা নয়৷ আপনাকে কন্টেন্ট তৈরি করায় উস্তাদ টাইপ হতে হবে। 
আপনার কন্টেন্ট কে সুন্দরভাবে তৈরি করতে হবে, তারপর এটাকে আরো ভালো, দীর্ঘতর ও গভীর করতে হবে। 
কন্টেন্ট তৈরি করার সময় নিশ্চিত থাকতে হবে যে যে বিষয়ে কন্টেন্টটি তৈরি করা হয়েছে, সে বিষয়ের সব তথ্য যেন ঠিক থাকে৷ 
কোয়ালিিট অন পেজ এসইও এর গুরুত্বপূর্ণ একটি ফ্যাক্টর ।

কী-ওয়ার্ড রিসার্চ: কী-ওয়ার্ড রিসার্চ একটা বেস্ট কন্টেন্ট তৈরি করার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।  
একটি নির্দিষ্ট ফোকাসড কী-ওয়ার্ড আপনার আর্টিকেল জুড়ে ও শিরোনামে থাকবে। তাই আর্টিকেল বা ঐ কন্টেন্ট এর জন্য একটা ফোকাসড কী-ওয়ার্ড সেলেক্ট করতে হবে আপনাকে। 
এটা এতই গুরুত্বপূর্ণ একটি এসইও ফ্যাক্টর যে এটার পেছনে ও এটা শেখার পেছনে আপনাকে বেশি সময় ব্যয় করতে হবে। এটা শেখার জন্য অবশ্য আপনাকে কোনো বই বা কোর্স কিনতে হবে না। ইউটিউব এ প্রচুর রিসোর্স আছে। গুগল এ সার্চ দিলে এ নিয়ে প্রচুর ব্লগ পাবেন। 

অন পেজ এসইও শুরু করার আগে আপনাকে কী-ওয়ার্ড নিয়ে রিসার্চ করতেই হবে।

কী-ওয়ার্ড এর ব্যবহার: আপনি যে কী-ওয়ার্ড সেলেক্ট করবেন সেই কী-ওয়ার্ড অবশ্যই কন্টেন্ট এ ব্যবহার করা উচিত। 
আপনাকে খুবই বুদ্ধিমান এর মতো কী-ওয়ার্ডের ব্যবহার করতে হবে। ফোকাসড কী-ওয়ার্ড এর পাশাপাশি এর সমার্থক শব্দ ব্যবহার করতে হবে।
চেষ্টা করতে হবে যেন আর্টিকেল এর প্রথম ১০০ শব্দ ও টাইটেল এ ফোকাসড কী-ওয়ার্ডটি থাকে। 
সে কী-ওয়ার্ডগুলো মেটা ডিস্ক্রিপশন, মেটা টাইটেল, ইউআরএল এ ব্যবহার করতে হবে। 
তবে এটাও খেয়াল রাখতে হবে কী-ওয়ার্ডের ঘনত্ব যেন বেশি না হয়। গুগল এখন খুবই স্মার্ট। একটা কী-ওয়ার্ড অতিরিক্ত ব্যবহার করলে গুগল তা সহজে ধরে ফেলতে পারে! 
এটা অন পেজ এসইও এর একটি প্রধান গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর।

ফ্রেশনেস অব কন্টেন্ট: হাবস্পটের মতে নিয়মিত কন্টেন্ট আপলোড করা র‍্যাংকিং এর জন্য সহায়ক। 
তবে অবশ্যই নতুন, ইউনিক কন্টেন্ট আপলোড করতে হবে। কারো কপি করা কন্টেন্ট যেকোনো সার্চ ইঞ্জিন খুব সহজে ধরতে পারে৷ 
নতুন ও ইউনিক কন্টেন্ট তৈরি করুন। ডুপ্লিকেট কন্টেন্ট ব্ল্যাক হ্যাট এসইও এর আওতায় পড়ে!

সরাসরি উত্তর: যা লিখবেন তার বিষয়বস্তু পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করবেন৷ গুগল ভিজিটরদের সেটা দেখায় যেটা ভিজিটর চায়। তাই কন্টেন্ট বেশি জটিল করবেন না। 

HTML 

বেস্ট কন্টেন্ট তৈরি করার পর এবার আপনাকে কন্টেন্ট এর দিকে খেয়াল রাখতে হবে। 
এর জন্য আপনাকে প্রফেশনাল কোডার হতে হবে না। HTML এর কিছু ব্যসিক জানতে হবে। 
যদি ওয়ার্ডপ্রেস এর মতো সিএমএস ব্যবহার করেন তাহলে অবশ্য এটা লাগবে না৷ তবুও আমি সাজেস্ট করব HTML সম্পর্কে যেন আপনার ব্যসিক ধারণা ক্লিয়ার থাকে৷ 
যাই হোক, চলুন দেখা যাক HTML এর চারটি অংশ দেখা যাক যেগুলো এসইও এর গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর৷ 

টাইটেল ট্যাগ: টাইটেল হলো সংবাত্রের শিরোনাম এর মতো। একটা আর্টিকেল বা কন্টেন্ট এর একটা শিরোনাম বা টাইটেল রাখতে হবে। 
আপনার কন্টেন্ট এর বিষয়বস্তু কী তা ক্লিয়ার করার জন্য অবশ্যই একটা টাইটেল দিতে হবে। এতে ভিজিটরদের কাছেও কন্টেন্ট ক্লিয়ার হয়, সার্চ ইঞ্জিনগুলোও বুঝতে পারে কীসের উপর এই কন্টেন্ট। 

মেটা ডিস্ক্রিপশন: গুগল যখন কিছুর রেজাল্ট শো করে, তখন ওয়েবপেজ এর নিচে ছোট একটা ডিস্ক্রিপশন শো করে। এটা মেটা ডিস্ক্রিপশন। 

মেটা ডিস্ক্রিপশন


মেটা ডিস্ক্রিপশন দিলে গুগল প্লাস ভিজিটদের কাছে কন্টেন্ট এর বিষয়বস্তু স্পষ্ট হয়। 
মেটা ডিস্ক্রিপশন ভালোভাবে অপটিমাইজেশন করতে হয়। মেটা ডিস্ক্রিপশন এ কন্টেন্ট এর ফোকাসড কী-ওয়ার্ড ব্যবহার করলে সবথেকে বেটার হয়!

সাব হেডিং: আর্টিকেল বা কন্টেন্ট এ সাব হেডিং ব্যবহার করতে হবে। এটা মূলত h2-h6 ট্যাগ এর আওতায়। 
কন্টেন্ট এ কমপক্ষে দুই-তিনটা সাব হেডিং ব্যবহার করতে হবে৷ 

ডিজাইন 

সাইটের ডিজাইন অন পেজ এসইও তে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে ভূমিকা রাখে৷ 
লো লোডিং টাইম, ইউজার রেসপন্সিভ ডিজাইন, মোবাইল রেসপন্সিভ ডিজাইন, নিরাপদ সংযোগ ইত্যাদি বিষয় নিশ্চিত করলে আপনি অনেক এগিয়ে থাকবেন! 

পোস্ট এন্ড পেজ লেআউট: পোস্টের সুন্দর লেআউট থাকতে হবে। প্রতিটি আর্টিকেল এ ছবি বা ইনফো-গ্রাফিক্স ব্যবহার করতে হবে। 
পোস্ট বা পেজ এর ডিজাইন যদি ইউজার রেসপন্সিভ না হয়, তাহলে ইউজার বা ভিজিটর সেটা পছন্দ করবে না। তারা সঙ্গে সঙ্গে বের হয়ে আসে। ফলে বাউন্স রেট বেড়ে যায়। আর বাউন্স রেট বেড়ে গেলে র‍্যাংকিং করা খুব কষ্টকর হয়। 

মোবাইল রেসপন্সিভ ডিজাইন: আপনার ওয়েবসাইটকে ডেস্কটপ এর পাশাপাশি মোবাইল এর জন্যও ডিজাইন করতে হবে। 
কারণ অধিকাংশ ভিজিটর আসে মোবাইল থেকে। মোবাইল এর সাথে এডজাস্ট হয় না এমন ওয়েবসাইট মোবাইল ব্যবহারকারী পছন্দ করে না। 

লোডিং টাইম: আপনার এটা খেয়াল রাখতে হবে যেন কন্টেন্ট ও পেজ এর লোডিং টাইম কম হয়। পেজ অথবা কন্টেন্ট লোড হতে বেশি সময় নিলে ভিজিটর চুপচাপ সেখান থেকে বেড়িয়ে আসবে। 
তাই চেষ্টা করুন যেন লোডিং টাইম কমানো যায়। ভালো সার্ভার ব্যবহার করুন। অতি উচ্চ রেজুলেশন এর ছবি ভা ভিডিও ব্যবহারের প্রয়োজন নেই৷ 

ইউআরএল এ কী-ওয়ার্ড: আপনার পেজ এর ইউআরএল এ কী-ওয়ার্ড ব্যবহার করুন। যেমন এই লেখাটির ইউআরএল এ আমি কী-ওয়ার্ড ব্যবহার করেছি “অন পেজ অপটিমাইজেশন”। 

https:// ও SSL: সাইটে SSL সার্টিফিকেট ব্যবহার করুন। পার্মালিংক এ https:// ব্যবহার করুন। গুগল বা অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিন এটা খেয়াল রাখে আপনার ওয়েবসাইট সুরক্ষিত কিনা। 

সাইটটি এসএসএল দ্বারা সিকিউরড


এই ছিল অন পেজ এসইও এর বড় ও প্রধান তিনটি ক্যাটাগরি। এই তিনটি বিষয় কিন্তু এসইও এর গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর৷ কাঙ্ক্ষিত ও সর্বোত্তম ফলাফল পেতে এই তিনটি বিষয় আপনাকে অপটিমাইজেশন করতেই হবে! 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *